জমি কেলেঙ্কারিতে হাসিনা-পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৯ সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়েরকৃত পৃথক তিনটি মামলায় ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়মিতভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ক্ষমতার দুর্ব্যবহার করে এসব জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, এবং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং শেখ হাসিনা ও জয়সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসানকে জেরা করেন আসামি খোরশেদের আইনজীবী। জেরা শেষ না হওয়ায় আগামী ১০ নভেম্বর পরবর্তী জেরার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, গত জানুয়ারি মাসে দুদক মোট ছয়টি মামলা দায়ের করে, যার মধ্যে এই তিনটি ফোকাসে রয়েছে। আদালত ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা, জয়, পুতুলসহ অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা মামলার গুরুত্ব তুলে ধরে।
প্রথম মামলায় (শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে) ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, এবং তদন্তকারী আফনান জান্নাত কেয়ার জেরা চলমান। দ্বিতীয় মামলায় (শেখ হাসিনা ও জয়সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে) ২৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ, এবং তদন্তকারী এস এম রাশেদুল হাসানের জেরা অব্যাহত। তৃতীয় মামলায় (শেখ হাসিনা ও পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে) আজ কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি, তবে ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ইতোমধ্যে শেষ। এ মামলার তদন্তকারী আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ নভেম্বর তারিখ ধার্য রয়েছে।
এসব মামলায় সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের কর্মকর্তা, সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, যারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অনিয়মের ফলে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং জমি বরাদ্দের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে।





