স্বর্ণের দামে ফের উত্তাপ: ভরিতে বাড়লো ১,০৫০ টাকা, নতুন মূল্য ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫১ টাকা
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এবার প্রতি ভরিতে ১,০৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫১ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এ দাম বুধবার (২৭ আগস্ট) থেকে কার্যকর হবে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫১ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪১ হাজার ২৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে ভিন্নতা হতে পারে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১,৫৭৪ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ১৬ হাজার ১২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ২৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়।
চলতি বছরে এ নিয়ে মোট ৪৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ৩০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমেছে মাত্র ১৬ বার। ২০২৪ সালে স্বর্ণের দাম ৬২ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৩৫ বার বাড়ানো এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৭২৬ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণেও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





