ময়নাতদন্তে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের শরীরে মেলেনি আঘাতের চিহ্ন
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক আজকের পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (২৩ আগস্ট, ২০২৫) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পুলিশ ও স্বজনদের উপস্থিতিতে এই ময়নাতদন্ত পরিচালিত হয়। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ময়নাতদন্ত পরিচালনাকারী মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শেখ মো. এহসানুল ইসলাম বলেন, “লাশটি পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এটি হালকা পচনশীল অবস্থায় ছিল। আমরা শরীরের বাইরে ও ভেতরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি। তবে, নিশ্চিত হতে শরীরের কিছু অংশ—দাঁত, চুল, লিভার, কিডনি ও পাকস্থলী—সংগ্রহ করে ফ্রিজিংয়ের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।”
৭১ বছর বয়সী বিভুরঞ্জন সরকার গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট, ২০২৫) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ওই দিন রাতে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
শুক্রবার (২২ আগস্ট, ২০২৫) বিকেল পৌনে চারটার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বলাকির চর এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানায়। কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালেহ আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। সন্ধ্যার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ মরদেহের ছবি তুলে রমনা থানায় পাঠায়। পরিবারের দেওয়া বিভুরঞ্জন সরকারের ছবির সঙ্গে মিল পাওয়ার পর পুলিশ তাঁর পরিবারকে জানায়। এরপর শুক্রবার রাতে বিভুরঞ্জনের ছেলে ঋত সরকার ও ভাই চিররঞ্জন সরকার মুন্সিগঞ্জে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুলিশ মরদেহটি স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করে। মরদেহ গ্রহণ করেন বিভুরঞ্জনের ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার, আজকের পত্রিকার অ্যাডমিন কো-অর্ডিনেটর এস এম সেলিম, চিররঞ্জনের বন্ধু তাহমিদুজ্জামান, আজমা হাই এবং মনন মোর্শেদ। পরে ফ্রিজিং গাড়িতে করে মরদেহটি রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
চিররঞ্জন সরকার বলেন, “আমরা ভাইয়ের মরদেহ বুঝে পেয়েছি। এটি সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পরিবারের সদস্যরা শেষবার দেখার পর তাঁর শেষকৃত্যের জন্য রাজধানীর সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমন্দির ও শ্মশানে নেওয়া হবে।”
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “এখনো আমরা কিছু ভাবিনি। শেষকৃত্যের পর পরিবারের সদস্যরা বসে আলোচনা করে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”
কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালেহ আহমেদ জানান, “দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বিভুরঞ্জন সরকার দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর পরিবার ও সহকর্মীরা এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে পরিবার ও পুলিশ, যা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে।





