পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নয়: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অবস্থায় সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন টেকসই নয়। তিনি মনে করেন, এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য দেশ এখনো পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয় এবং এটি কেবল জটিলতা সৃষ্টি করবে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে না।
বুধবার (১৩ আগস্ট ২০২৫) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী জানান, গরিব অর্থনীতির দেশে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা ব্যয়বহুল এবং জটিল। তিনি বলেন, “আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পিআর পদ্ধতি এই মুহূর্তে প্রয়োগ করলে স্বচ্ছতার অভাবে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এটি কোনো ইতিবাচক উদ্দেশ্য পূরণ করবে না, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।” তিনি উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এই পদ্ধতির জন্য উপযোগী নয়।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। মব কালচারের প্রবণতা বেড়েছে, যা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে এবং কাউকে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার সুযোগ না দিতে। তিনি আরও বলেন, “উস্কানিমূলক কথাবার্তার কারণে যেন কেউ প্রাণ হারায়, তা রোধ করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
রিজভী জোর দিয়ে বলেন, যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, তাকে জনকল্যাণমূলক বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, “অনেকে এই অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সরকারের দায়িত্ব হলো এই সুযোগবাদীদের দমন করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।”
পিআর পদ্ধতির পরিবর্তে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, “আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। স্বচ্ছ ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পিআর পদ্ধতির মতো জটিল ব্যবস্থা প্রয়োগের আগে আমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও উন্নত করতে হবে।”





