জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই ইসি’র প্রধান লক্ষ্য
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, গত নির্বাচনে ভোট গ্রহণে অনিয়ম সৃষ্টিকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের বাদ দেওয়ার সুযোগ সীমিত হলেও তাদের কার্যক্রম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের হারানো ভরসা পুনরুদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি জানান, নির্বাচন কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করতে ইসি নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণকে ইসি’র উপর আস্থা রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করবে না, বরং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসি কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নির্বাচনী আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নাগরিকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ভোট প্রদান শুধু নাগরিক দায়িত্বই নয়, এটি একটি নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্বও। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইসি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, তবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সরাসরি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সভায় রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলার নির্বাচনী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হলরুমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন সিইসি।
সিইসি জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইসি সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুক। এটি নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।”





