মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত: মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই
ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আরও একজন শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত শিক্ষার্থীর নাম মাকিন (১৩)।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই ২০২৫) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইমান মারা যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইমানের শরীরের ৪৫ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ ছিল। এই ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে এখন পর্যন্ত ১৪ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত সোমবার (২১ জুলাই ২০২৫) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে এবং আগুন লেগে যায়, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনার সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল, ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা বেশি।
এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে অনেকের শরীরের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, গুরুতর দগ্ধ রোগীদের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা কম থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। উদ্ধারকৃতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকার ইতোমধ্যে এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ এবং দায় নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটির প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়াতে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে। সেই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।





