সম্পুর্ন বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে কর্মীরা, রয়েছে চাকরির নিশ্চয়তাও
বাংলাদেশীদের সবচেয়ে পছন্দের শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, যেখানে পাড়ি জমাতে কর্মীরা খরচ করে থাকেন চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এরপরও অনেক ক্ষেত্রেই চাকরির নিশ্চয়তা থাকে না। আবার সেখানে গিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হয় কিংবা অনেক পরিশ্রম করে কখনো কখনো অবৈধ হওয়ার দায়ে জেল খাটতে হয় অনেক কর্মীকে।
এমন একটা অবস্থায় সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠাতে সুযোগ করে দিয়েছেন, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি।
এ নিয়ে সংস্থাটি এবার পঞ্চম ব্যাচে কর্মী পাঠাচ্ছেন। প্রথম ব্যাচে গত ২৯ জুন ২০ জন কর্মী দিয়ে শুরু হয় তাদের এই উদ্যোগ। এরপর আরো তিনটি ব্যাচে যথাক্রমে ৩১ জন, ৬৫ জন এবং ৬৯ জন কর্মী পাঠানো হয় ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে। সবশেষ ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পঞ্চম ব্যাচে ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নিজস্ব উদ্যোগে আরও ৫০ জন কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। বিনা খরচে গেলেও এসব কর্মীদেরকে চাকরির নিশ্চয়তার পাশাপাশি রয়েছে নানা সুযোগ সুবিধাও।
এসব কর্মীদেরকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়োগকারি কোম্পানি নেশন গেট সলিউশন এর কর্মকর্তারা গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পঞ্চম পর্যায়ে ৫০ জন কর্মীর মালয়েশিয়া গমন উপলক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কর্মীদের মাঝে মালয়েশিয়া ভ্রমণের জন্য স্মার্ট কার্ড বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ রুহুল আমিন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী। সম্পূর্ণ বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর বাস্তবায়নকারী রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী এবং বায়রার সাবেক মহাসচিব মোঃ রুহুল আমিন স্বপন এমন উদ্যোগ নেয়ায়, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব এবং উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে ধন্যবাদ জানান। এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘আইএলও ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ এর আলোকে উচ্চ অভিবাসন ব্যয় রোধে স্বনামধন্য কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানি জিরো কস্ট মাইগ্রেশনে কর্মী নিয়োগে সম্মত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশগামী কর্মীর পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিমান টিকেট পর্যন্ত সকল খরচ নিয়োগ কর্তা বহন করবে।
<span;>মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর বাংলাদেশী কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইন্সুরেন্স ও বাসস্থানসহ সব খরচ মালয়েশিয়ার ওই নিয়োগ কর্তা বহন করবেন। পাশাপাশি নিয়োগ কর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বীমা, চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবেন । ১৫০০ রিংগিত বেসিক বেতন ও দুই ঘন্টা ওভারটাইমে একজন কর্মী মাসে আয় করবেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা। যা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশের শ্রমিকের আয়ের প্রায় দ্বিগুণ।
এ নিয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরণ খরচে ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল ২৩৫ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০২২ সালের আগস্ট মাস হতে মালয়েশিয়ায় পুনরায় কর্মী গমন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় চার লক্ষ কর্মী মালয়েশিয়া গমন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জিরো কস্ট মাইগ্রেশন কর্মীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি সুসংবাদ। এতে সরকার এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের একটিmayy উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি শুরু হওয়ার ফলে বাংলাদেশী কর্মীদের অভিবাসন খরচ কমে আসবে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে । মালয়েশিয়া হতে রেমিটেন্স প্রবাহ ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈদেশিক রেমিটেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বর্তমানে সারা বিশ্বের মধ্যে মালয়েশিয়া পঞ্চম স্থানে উন্নীত হয়েছে তাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।





