খাবারে অতিরিক্ত লবণ আপনার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাটি বেশ সহজ মনে হলেও এটি বেশ বিপজ্জনকও হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী ৩০-৭৯ বছর বয়সী ১২৮ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপ অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন। এটি বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা ব্যাখ্যা করতে পারে যে এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপ যদি চিকিত্সা না করা হয় তবে এটি স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো জীবন-হুমকির অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে । তাই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক জার্নাল হাইপারটেনশনে একটি নির্দেশিকা প্রস্তাব করেছে। হাইপারটেনশন থেরাপি গাইডলাইনে কম সোডিয়াম এবং বেশি পটাসিয়াম যুক্ত লবণ যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এই নির্দেশিকাতে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়ায়, যা উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্যও মারাত্মক হতে পারে। কিন্তু খাবারের স্বাদ ধরে রাখতে মানুষ খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে না। অন্যদিকে, কম পটাসিয়াম গ্রহণও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পটাশিয়াম যুক্ত লবণ ব্যবহার করে এই উভয় সমস্যারই সমাধান করা যায়। অন্যান্য লবণের বিকল্পের তুলনায় পটাশিয়াম সমৃদ্ধ লবণ স্বাদ রক্ষা করে এবং সোডিয়ামের অভাবে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই সোডিয়াম লবণের পরিবর্তে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ লবণ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে যাদের কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে তাদের পটাশিয়াম সমৃদ্ধ লবণ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা শুধু বেশি সোডিয়াম সমৃদ্ধ লবণ খাওয়ার কারণে হয় না। এছাড়াও অনেক জীবনধারা সম্পর্কিত অভ্যাসও উচ্চ রক্তচাপের কারণ। আসুন জেনে নিই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আরও কী কী বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আপনার ওজন বেশি বা মোটা হলে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। এটি আপনার রক্তচাপের উপর একটি বড় প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও, আপনার কোমরের আকারও মাথায় রাখুন। কোমরের আকার বৃদ্ধির কারণে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
প্রক্রিয়াজাত, উচ্চ লবণ, চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাদ্যে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে রক্তচাপ বাড়তে পারে। তাই মৌসুমি ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম ইত্যাদিকে আপনার খাদ্যের অংশ করুন। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করুন। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। এরোবিক ব্যায়াম এবং শক্তি প্রশিক্ষণ এতে বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।
অতিরিক্ত চাপ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত চাপ প্রদাহ বাড়ায়, যা রক্তচাপ বাড়ায়। তাই মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম পান, ধ্যান করুন এবং প্রয়োজনে পেশাদারের সাহায্যও নিতে পারেন।
ধূমপান এবং মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায়। ধূমপান ধমনীর দেয়ালের ক্ষতি করে এবং হার্টের জন্যও ক্ষতিকর। অ্যালকোহল শুধু রক্তচাপই বাড়ায় না উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ওষুধের প্রভাবও কমিয়ে দেয়। সিগারেট এবং অ্যালকোহল উভয় থেকে দূরে থাকুন।
আরও পড়ুনঃ “যারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না”





