স্বাস্থ্য

বয়স বাড়লে আল্জ্হেইমার্সের ঝুঁকি বাড়ে

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরে অনেক পরিবর্তন ঘটে। একদিকে বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমরা পরিণত এবং অভিজ্ঞ হয়ে উঠি, অন্যদিকে আমাদের শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। বয়স বৃদ্ধি আমাদের মস্তিষ্ককেও প্রভাবিত করে, যার কারণে আপনি সহজেই আলঝেইমারের শিকার হতে পারেন। যাইহোক, কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে না যে আলঝাইমার হবে না। তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে এর ঝুঁকি অবশ্যই কমানো যায়। এই ছোট অভ্যাসগুলি আপনার বয়সের সাথে সাথে আপনার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে অনেকদূর যেতে পারে। আসুন জেনে নিই বয়স বাড়ার সাথে কিভাবে আপনি আপনার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে পারবেন।

একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য শুধু আপনার শরীরের পুষ্টিই পূরণ করে না, এটি আপনার মনকে সুস্থ রাখতেও সহায়ক হতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ভালো চর্বি ও উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্যকে আপনার খাদ্যের অংশ করে রাখলে আপনি আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ করতে পারেন। এছাড়াও, আপনার খাদ্য থেকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং পলি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বাদ দিন। এগুলো আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর হতে পারে।

ব্যায়াম বা ঘরের কাজের সাহায্যে আপনি শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারেন। দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো বা অন্য কোনো অ্যারোবিক ব্যায়াম আপনার মস্তিষ্কের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। ব্যায়াম আপনার স্মৃতিশক্তিও উন্নত করে। এছাড়া মস্তিষ্কের রক্ত ​​চলাচলেরও উন্নতি ঘটে। তাই প্রতিদিন কিছু শারীরিক পরিশ্রম করুন। উল্টো এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে, ব্যায়াম না করলে আলঝেইমারের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

পর্যাপ্ত ঘুম পাওয়া শুধু আপনার মস্তিষ্কের জন্যই নয়, আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় আমাদের মস্তিষ্ক স্মৃতি সঞ্চয় করে, যা স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা একটানা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। যদি কোনো কারণে আপনার ঘুমের সমস্যা হয় বা বারবার জেগে থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সমস্যাটির চিকিৎসা করুন।

আপনার মনকে সচল রাখার জন্য আপনি অনেক ধরনের পাজল, ব্রেন টিজার বা যেকোন নতুন স্কিল শিখতে পারেন। এগুলো সবই মস্তিষ্কের জন্য ব্যায়ামের মতো এবং তাই এগুলোর সাহায্যে স্মৃতিশক্তিও শক্তিশালী করা যায়। মিউজিক, ফটোগ্রাফির মতো ক্রিয়াকলাপও এতে খুব সহায়ক হতে পারে। এছাড়া ক্রস ওয়ার্ড পাজল, সুডোকু ইত্যাদির সাহায্য নিতে পারেন। এই সমস্ত ক্রিয়াকলাপের কারণে, মস্তিষ্ক আরও ভালভাবে কাজ করতে সক্ষম হয় এবং জ্ঞানীয় স্বাস্থ্য ভাল থাকে।

আপনার সামাজিক জীবন আপনার মস্তিষ্ককে কতটা প্রভাবিত করে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই মানুষের সাথে দেখা করা, কথা বলা ইত্যাদি আপনার মস্তিষ্কের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সামাজিক জীবন ভালো রাখুন এবং সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করুন।

আরও পড়ুনঃ “রাষ্ট্রের বিকাশে ভালো সাংবাদিকের বিকল্প নেই”

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

লং কোভিড
জাতীয় ফিচার স্বাস্থ্য

‘লং কোভিড’-এর লক্ষণগুলো জেনে নিন

বিশ্বব্যাপী ১৪৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ভুগছেন লং কোভিডে-এ। যার মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
নিরামিষ হলেও আমিষে ভরপুর এই খাবারগুলো
স্বাস্থ্য

নিরামিষ হলেও আমিষে ভরপুর এই খাবারগুলো

প্রোটিন শরীরের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে দৈনিক কমপক্ষে ১ গ্রাম প্রোটিন