সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের বিরুদ্ধে বিজিবি মহাপরিচালকের কঠোর হুঁশিয়ারি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের (পুশইন) ঘটনা ঘটছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ। আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন, উল্লেখ করে যে সিলেট, কুড়িগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো এই অবৈধ কার্যকলাপের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিজিবি মহাপরিচালক জানান, সিলেটের বিয়ানীবাজার, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারীর দুর্গম চর এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জনবসতিহীন পাহাড়ি অঞ্চল দিয়ে এই অনুপ্রবেশ ঘটছে। “এই এলাকাগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সীমান্ত পার হচ্ছে,” বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, এই ঘটনাগুলো শুধু নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের মতো জটিল সমস্যাকেও উসকে দিচ্ছে।
গত ছয় মাসে বিজিবি এই ধরনের শতাধিক পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে, যার মধ্যে ২৫০ জনেরও বেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিবেশী দেশের নাগরিক, যারা অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় বা পাচারকারী চক্রের প্রলোভনে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। বিজিবি মহাপরিচালক জানান, এই ঘটনাগুলো মোকাবিলায় সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ড্রোন ও নাইট ভিশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
“আমরা সীমান্তে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছি। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও কঠিন করার জন্য অতিরিক্ত জনবল ও প্রযুক্তির প্রয়োজন,” বলেন মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান। তিনি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধের হার বেড়েছে। রৌমারীর একজন বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, “চর এলাকায় রাতের বেলা অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা আমাদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করছে।”
বিজিবি মহাপরিচালক আশ্বাস দিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। তিনি স্থানীয় জনগণের কাছে সীমান্তে সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানান। এই ঘটনা দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।





