নারী চা-শ্রমিকদের ওয়াশরুম না দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি শ্রম উপদেষ্টার
দেশের চা বাগানগুলোতে নারী শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে ওয়াশরুম সুবিধা চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। আজ শনিবার সিলেটে একটি শ্রমিক কল্যাণ সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন, সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চা বাগানে কর্মরত নারী শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক সুবিধার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। বিশেষ করে ওয়াশরুমের অভাবে তাদের স্বাস্থ্য ও মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড. সাখাওয়াত বলেন, “নারী শ্রমিকরা আমাদের চা শিল্পের মেরুদণ্ড। তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এই অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানে নারী শ্রমিকদের মধ্যে পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ বাগানে নারীদের জন্য পৃথক ওয়াশরুম নেই। এই পরিস্থিতি তাদের দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সভায় উপস্থিত একজন নারী শ্রমিক, রীতা মুণ্ডা, বলেন, “আমরা সারাদিন কাজ করি, কিন্তু মৌলিক সুবিধা না থাকায় লজ্জায় ও অস্বস্তিতে থাকতে হয়।”
উপদেষ্টা জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে সব চা বাগানে নারীদের জন্য পৃথক ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। এ জন্য সরকার বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। তিনি আরও বলেন, “এটি কেবল সুবিধার বিষয় নয়, এটি নারী শ্রমিকদের মানবাধিকার ও সম্মানের প্রশ্ন।”
এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রমেশ তাঁতি বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রথম পদক্ষেপ। তবে বাস্তবায়নের দিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
বিপরীতে, কিছু বাগান মালিক জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই সুবিধা নির্মাণে সময় লাগতে পারে। তবে ড. সাখাওয়াত স্পষ্ট করেছেন, কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে শ্রম আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগ চা বাগানের নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সরকার, বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর।





