ফিচার স্বাস্থ্য

শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন না তো?

শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন না তো?

পুষ্টিগুণে ভরপুর শজনেকে বলা হয় ‘অলৌকিক গাছ’। তবে বাজারে এখন শজনের পাশাপাশি হুবহু দেখতে ‘লাজনা’ নামক একটি জাতের দাপট বাড়ছে। দেখতে এক হলেও এদের ফলন, স্বাদ ও চাষপদ্ধতিতে রয়েছে বিস্তর ফারাক। সঠিক জাত না চিনলে পুষ্টি ও স্বাদে ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

খাদ্যতালিকায় শজনে ডাঁটার কদর বাঙালির কাছে চিরন্তন। বসন্তের শেষ আর গ্রীষ্মের শুরুতে ডাল বা তরকারিতে শজনে না থাকলে যেন চলেই না। তবে ইদানীং বাজারে শজনের মতোই লম্বা ও সবুজ এক ধরণের ডাঁটা পাওয়া যাচ্ছে, যা মূলত ‘লাজনা’। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, লাজনা হলো শজনেরই একটি আধুনিক বা হাইব্রিড সংস্করণ। যদিও সাধারণ ক্রেতার চোখে এদের পার্থক্য ধরা পড়া কঠিন, কিন্তু অভিজ্ঞ কৃষিজীবী ও উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা।

কেন এই বিভ্রান্তি?

শজনে এবং লাজনা—উভয়ই একই পরিবারের উদ্ভিদ। এদের পাতা এবং ডাঁটার বাহ্যিক অবয়ব এতটাই কাছাকাছি যে, বাজারে বিক্রির সময় বিক্রেতারা অনেক সময় লাজনাকেও শজনে বলেই চালিয়ে দেন। মূলত অধিক ফলন এবং সারা বছর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতেই লাজনা চাষের প্রসার ঘটছে। তবে ভোজনরসিকদের মতে, দেশি শজনের যে চিরাচরিত ঘ্রাণ এবং নরম শাঁস, লাজনাতে তা কিছুটা অনুপস্থিত।

শজনে ও লাজনা: চেনার সহজ উপায়

একজন সচেতন ক্রেতা বা চাষি হিসেবে এই দুইয়ের পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি। নিচে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:

  • গাছের গঠন: দেশি শজনে গাছ সাধারণত অনেক বড় এবং ডালপালা ছড়ানো হয়। অন্যদিকে, লাজনা গাছ তুলনামূলক খাটো ও ঝোপালো প্রকৃতির হয়। লাজনা মূলত ‘ড্রামস্টিক’ ভ্যারাইটির অন্তর্ভুক্ত, যা বাণিজ্যিক চাষের জন্য সুবিধাজনক।

  • ফলনের সময়: শজনে একটি ঋতুভিত্তিক সবজি। এটি সাধারণত বছরে একবার (বসন্তকালে) ফলন দেয়। কিন্তু লাজনা হলো বারোমাসি জাত। অর্থাৎ, বছরের প্রায় সব সময়ই লাজনা বাজারে পাওয়া যায়।

  • ডাঁটার আকার ও স্বাদ: দেশি শজনে ডাঁটা কিছুটা সরু এবং লম্বায় মাঝারি হয়, এর ভেতরের শাঁস অত্যন্ত সুস্বাদু ও নরম। লাজনা ডাঁটা সাধারণত অনেক বেশি লম্বা, মোটা এবং গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়। রান্নার পর লাজনা কিছুটা আঁশযুক্ত মনে হতে পারে।

  • ফুলের রঙ: শজনের ফুল ধবধবে সাদা এবং এর ঘ্রাণ তীব্র। লাজনা বা হাইব্রিড জাতের ফুল হালকা ক্রিম রঙের হতে পারে এবং এর সুবাস তুলনামূলক কম।

পুষ্টি ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব

পুষ্টিগুণের বিচারে দুটিই অত্যন্ত উপাদেয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে লাজনা অনেক বেশি লাভজনক। যেখানে একটি শজনে গাছ থেকে ফলন পেতে ৩-৪ বছর সময় লাগে, সেখানে লাজনা গাছ রোপণের ৬-৮ মাসের মধ্যেই ফলন দিতে শুরু করে। বাড়ির আঙিনায় বা ছাদবাগানে চাষের জন্য লাজনা এখন অনেকের প্রথম পছন্দ।

এক নজরে মূল পার্থক্যসমূহ:

  • শজনে: ঋতুভিত্তিক (বসন্তকালীন), বড় গাছ, তীব্র সুগন্ধি ফুল, নরম ও মিষ্টি শাঁস।

  • লাজনা: বারোমাসি ফলন, খাটো বা বামন প্রজাতির গাছ, দ্রুত বর্ধনশীল, বাণিজ্যিক চাষে জনপ্রিয়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার