“বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশ আবার পিছিয়ে যাবে”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে সরকার হটানো যায় না, সরকার হটাতে জনগণ দরকার হয়, জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশ আবার পিছিয়ে যাবে।
আজ রোববার নরসিংদীতে মোসলেম উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে সরকার হটানো যায় না। যুগের পর যুগ ধরে মানুষের ওপর অত্যাচার করে আসছে বিএনপি। তারা সামনে আসার সাহস পায় না, গলি থেকে বেরিয়ে আগুন দিয়ে আবার পালিয়ে যায়। আর আওয়ামী লীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছে।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনে হারানোর জন্য শুধু বিদেশিদের দোষ দিয়ে লাভ নেই, আমাদের দেশের কিছু জ্ঞানী-গুণীও উঠেপড়ে লেগেছিলেন, কীভাবে আওয়ামী লীগকে হারানো যায়। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়। এক রকম জোর করার কারণেই আমরা সেই নির্বাচনে সরকারে আসতে পারিনি।
তিনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রপতি আমাদের দেশে এসেছিলেন। আমাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন- একই প্রস্তাব (গ্যাস রফতানি)। পরবর্তীকালে যখন লতিফুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হন। তার বাড়িতে আমাদের দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। আমাদের পার্টি থেকে আমি এবং তখনকার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান আর বিএনপির পক্ষ থেকে ছিলেন খালেদা জিয়া এবং মান্নান ভুঁইয়া। সেখানে জিমি কার্টার আসেন দূত হিসেবে। এবারও তার একই প্রস্তাব। আমি একই কথা বলেছি যে, আমাকে সার্ভে করতে হবে, আমার দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে হবে, পঞ্চাশ বছরের রিজার্ভ থাকতে হবে, তারপর উদ্বৃত্ত গ্যাস বিক্রির কথা আমি চিন্তা করবো। তাছাড়া দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে হবে এই দৈন্যতায় অন্তত বঙ্গবন্ধুর কন্যা ভোগে না। আমার কাছে ক্ষমতা বড় না।
সরকারপ্রধান বলেন, আজকে একবার চিন্তা করেন, সেদিন যদি আমি গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হতাম তাহলে কি আজকে এত চমৎকার সার কারখানা আমরা করতে পারতাম? কোনোদিনই হতো না! কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। আমার চোখের সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার রাষ্ট্রপতি এসে তার পিঠে হাত দিয়ে বাহবাও দিয়েছিলেন। তখন আমি জিল্লুর রহমান সাহেবকে বলেছিলাম, চাচা এখন চলেন। আমি বুঝতে পেরেছি কী হবে। কিন্তু আমি এটা কেয়ার করিনি। আমার কাছে ক্ষমতা বড় না, দেশের স্বার্থ বড়। আমরা সেখান থেকে চলে এসেছিলাম।
আরও পড়ুনঃ কক্সবাজারে ১৪ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী





