পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে সোনার খনি বানানো সম্ভব: বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাত্র পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তিনি শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘ব্যবসার ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। এই দুই দিনের সম্মেলনের আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা গবেষণা ব্যুরো।
উপদেষ্টা বলেন, “কাঁচামালের ঘাটতি থাকলেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে এই অভাব পূরণ করা সম্ভব। জ্ঞান অর্জনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, যে যত বেশি চেষ্টা করবে, সে তত বেশি অর্জন করবে।” তিনি আরও জানান, শ্রম উৎপাদনশীলতা, কার্যকর লজিস্টিক ব্যবস্থা, অর্থায়নের সুযোগ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
তিনি বাজার ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “গত রমজানে সরকারের অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল ছিল, যার ফলে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল।” গণঅভ্যুত্থানের পর বাজার ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, তখন সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা কঠিন ছিল। তবে, গণতান্ত্রিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠেছি।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “শেখ হাসিনার পতনের সময় আমাদের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার, এবং বিদেশি দায় ছিল ৬ বিলিয়ন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আমরা সেই দায় পরিশোধ করেছি। বর্তমানে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।”
ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, “গত ১৬ বছরের শাসনকালে ক্রোনিস তৈরি করে সম্পদের অসম বণ্টন করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ সরকার যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাজার পরিচালনা এবং নিরপেক্ষ সংস্কার বাস্তবায়ন করে, তবে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হবে।”





