জাকসু নির্বাচনে চমক: জিতু ভিপি, শিবিরের হাতে জিএস পদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের আবদুর রশিদ জিতু। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন শিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের মাজহারুল ইসলাম। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান।
নির্বাচনে জাকসুর মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতে বিজয়ী হয়েছে শিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট। বাকি চারটি পদের মধ্যে দুটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এবং দুটি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
জাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে জয়লাভ করেছে, তখন ভিপি পদে বিজয়ী হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন আবদুর রশিদ জিতু। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক।
জিতু জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তাকে সোচ্চার ও নেতৃত্বের প্রথম সারিতে দেখা গেছে। এমনকি কোটা সংস্কার আন্দোলনের আগে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হাতে আক্রান্ত হয়ে আহত হন। পরে তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগরে আন্দোলন পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। এরপর তিনি ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পাসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয় ১১ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এবং চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোট গণনা শুরু হয় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে। ম্যানুয়ালি ভোট গণনার কারণে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়। মোট ১১ হাজার ৮৯৭ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ভোট প্রদান করেন, যার মধ্যে ছাত্র ৬,১১৫ এবং ছাত্রী ৫,৭২৮ জন।
নির্বাচনে ২৫টি পদে ১৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে, নির্বাচনে অনিয়ম ও সুষ্ঠু পরিবেশের অভাবের অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ চারটি প্যানেল এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেন। এছাড়া, একজন নির্বাচন কমিশনার এবং বিএনপিপন্থি চারজন শিক্ষক পদত্যাগ করেন।
জাকসু নির্বাচন ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করলেও, ভোট গণনার সময় কিছু অভিযোগ এবং বিতর্ক ছিল। তবে, ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হলো।





