দেশে হামের তাণ্ডব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন নিশ্চিতভাবে হামে এবং ৯ জন এই রোগের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই দেশের স্বাস্থ্য খাতে নতুন বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই শিশুদের মৃত্যু হয়। আক্রান্তের সংখ্যার পাশাপাশি মৃত্যুর এই আকস্মিক উর্ধ্বগতি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। সাধারণ জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দিয়ে শুরু হলেও, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) এবং তীব্র ডায়রিয়ার মতো প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯টি শিশুর ক্ষেত্রেও এমন তীব্র উপসর্গ দেখা গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুর কোলে ঢেলে দেয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বস্তি এলাকাগুলোতে শিশুদের টিকাদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ। কোভিড পরবর্তী সময়ে অনেক পরিবারই শিশুদের নিয়মিত ইপিআই (EPI) শিডিউলের এমআর (MR) টিকা দিতে অবহেলা করেছে। এই সুরক্ষাকবচের অভাবই এখন শিশুদের ভাইরাসের মুখে অরক্ষিত করে তুলছে।
রাজধানীর একটি শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের কাছে যেসব শিশু আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসছে, তাদের বেশিরভাগেরই টিকার ডোজ সম্পন্ন করা ছিল না। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের আক্রমণ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করছে।” তিনি আরও জানান যে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছে, যখন চিকিৎসকদের আর কিছুই করার থাকছে না।





