দেড় মাস পর ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক, রিজার্ভে স্বস্তির ইঙ্গিত
দীর্ঘ দেড় মাস বিরতির পর আবারও বাজার থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৭ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আবারও সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৭ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর বাজারে ডলার সংগ্রহে ফিরল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৫৬ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই যোগ হয়েছে নতুন এই ৭ কোটি ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, ডলার কেনার এই প্রবণতা মূলত রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বুধবার দিন শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব করলে, অর্থাৎ International Monetary Fund-এর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। এটি আন্তর্জাতিক লেনদেন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
গত ৩১ মার্চ রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে বোঝা যায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিয়োগে আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডলার কেনার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমত, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বাড়ার ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, আমদানি ব্যয় তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকায় ডলারের ওপর চাপ কমেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডলার কেনা যেমন রিজার্ভ বাড়াতে সাহায্য করে, তেমনি বাজারে টাকার সরবরাহও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি হলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এই ভারসাম্য রক্ষা করতে হয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক দেশই রিজার্ভ সংকটে ভুগছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রিজার্ভ বাড়ার প্রবণতা একটি স্বস্তিদায়ক সংকেত। তবে এটি টেকসই করতে হলে রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ধরে রাখা এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
ডলার কেনার এই পদক্ষেপ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি এনে দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে শুধু রিজার্ভ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুষম নীতি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক আয়ের ধারাবাহিকতা।





