তিন বছর পর ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুত বা গ্রস রিজার্ভ তিন বছর পর আবার ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) পদ্ধতিতে হিসাব করলে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ২৮.৫১ বিলিয়ন ডলার।
এই উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজার থেকে ডলার কেনা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পুরো বছরে প্রবাসী আয় ছাড়িয়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এছাড়া সরকারের প্রণোদনা, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
২০২১ সালে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর আমদানি চাপ, জ্বালানি সংকট ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় রিজার্ভ কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে ২৫ বিলিয়নের নিচে নেমে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে এই রিজার্ভ দিয়ে দেশের পাঁচ মাসের বেশি আমদানি বিল পরিশোধ করা সম্ভব, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি জানিয়েছেন, চলতি মাস শেষে রিজার্ভ ৩৪-৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





