কক্সবাজারে ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজি চালকসহ ৪ জন নিহত
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদ নগর এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২ আগস্ট, ২০২৫) দুপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ঈদগাঁওয়ের মেহেরঘোনা এলাকার ছৈয়দ নূরের ছেলে সিএনজি চালক হাবিবউল্লাহ (৪২), কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীর ব্যবসায়ী জাফর আলমের দুই মেয়ে রেনু বেগম (৩০), আসমা আকতার (২০) এবং আসমার তিন বছর বয়সী শিশু সন্তান।
সিএনজি চালক সমিতির নেতা মোজাফ্ফর আহমদ জানান, “হাবিবউল্লাহ দুই নারী ও এক শিশুকে নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঈদগাঁও স্টেশন থেকে ভারুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন। বেলা ১টার দিকে রশিদনগর-ভারুয়াখালী সড়কের রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় তার সিএনজি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ট্রেনটি সিএনজিটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মাছুয়াখালী কবরস্থান এলাকায় নিয়ে যায়।”
প্রত্যক্ষদর্শী আবু বক্কর জানান, “গেটম্যানের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই জনবহুল ক্রসিংয়ে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ব্যারিকেড নেই। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় কোনো প্রতিবন্ধক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।”
রামু রেলওয়ে জংশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আকতার হোসাইন বলেন, “রেলপথটি এখনো পুরোপুরি হস্তান্তর করা হয়নি, তাই ক্রসিংগুলোতে স্থায়ী গেটম্যান নেই। প্রকল্পের লোকজন দায়িত্বহীনভাবে কাজ করছে, যার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।”
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈয়বুর রহমান জানান, “এই দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেকটি ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করে। পরে সেনাবাহিনী ও র্যাবের হস্তক্ষেপে বিকেল ৫টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা রেলক্রসিংগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





