আসছে বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে আরও বেশিসংখ্যক নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের আরও অধিক সংখ্যক প্রান্তিক নারীর কাছে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চাঁদপুরের এই জনাকীর্ণ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মাথায় তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। তবে বর্তমান অর্থবছর ও বাজেটীয় সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা যে অন্তর্বর্তীকালীন বা চলমান বাজেট থেকে এই ফ্যামিলি কার্ডের অর্থায়ন শুরু করেছি, সেখানে বরাদ্দের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আগামী জাতীয় বাজেটে এই খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সবচেয়ে জরুরি। একটি পরিবারে যখন একজন নারীর হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড থাকবে, তখন সেই পরিবারটি কেবল খাদ্য নিরাপত্তাই পাবে না, বরং সমাজে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সরকার প্রতিটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং এই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প তারই একটি অন্যতম চালিকাশক্তি।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার সুবিধাভোগী নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো চাঁদপুর জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি কর্মসূচি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি বড় ধরনের স্বস্তির ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, এই কার্ড বিতরণে এবং পণ্য সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





