৭ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার রাতে এক রেকর্ডগড়া ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। ৪৯৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলীয় ও ব্যক্তিগত মাইলফলকের সাক্ষী হয়ে রইল এই লড়াই। ৩৪টি ছক্কার ঝড়ে ম্যাচটি পরিণত হয় এক ব্যাটিং-উৎসবে, যেখানে শেষ হাসি হেসেছে ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এটি কেবল একটি সেমিফাইনাল নয়—বরং শক্তি, স্নায়ু এবং কৌশলের লড়াই। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ১৯২ রান। ওপেনিং জুটির আগ্রাসী সূচনা দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। পাওয়ারপ্লেতে ৬ ওভারে ৬২ রান তুলে ভারত ম্যাচের রাশ হাতে নেয়।
মধ্য ওভারে ইংল্যান্ডের স্পিনাররা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরালেও শেষ পাঁচ ওভারে আবারও ছক্কার বৃষ্টি নামে। বিশেষ করে ১৭তম ও ১৯তম ওভারে টানা চারটি ছক্কা দর্শকদের উল্লাসে মাতিয়ে তোলে। সব মিলিয়ে ভারতীয় ইনিংসে আসে ১৮টি ছক্কা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডও সমানতালে লড়াই করে। তবে মাঝপথে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ১৫তম ওভারে সেট ব্যাটারের বিদায় ইংল্যান্ডের রান তাড়াকে ধাক্কা দেয়।
শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ২২ রান। ১৯তম ওভারে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা ফেরান ইংলিশ ব্যাটাররা। কিন্তু শেষ ওভারে ভারতের অভিজ্ঞ পেসার স্নায়ুচাপ সামলে মাত্র ১৪ রান দেন। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৮ রান—যা অসম্ভব সমীকরণে পরিণত হয়।
এই ম্যাচে মোট ৩৪টি ছক্কা হয়েছে—যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দুই দলই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেয়, ফলে ম্যাচটি হয়ে ওঠে এক ব্যাটিং-কার্নিভাল।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
- মোট ছক্কা: ৩৪টি (ভারত ১৮, ইংল্যান্ড ১৬)
- ভারতের সংগ্রহ: ১৯২/৫
- ইংল্যান্ডের সংগ্রহ: ১৮৫/৮
- ম্যাচ ব্যবধান: ৭ রান
- এটি ভারতের এক সিনিয়র খেলোয়াড়ের ৪৯৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ
ভারতের কোচ ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই জয় কেবল স্কোরবোর্ডের নয়, এটি আমাদের মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন।” অন্যদিকে ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্বীকার করেন, “ছোট ছোট ভুলই বড় ব্যবধান তৈরি করেছে।”





