২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হঠাৎ করেই সংক্রামক ব্যাধি হামের উপসর্গে ৬ মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে আরও ১ হাজার ৩১৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্তের খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সারাদেশে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। শীতের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন জেলায় চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটছে। হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিন অসংখ্য শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগী জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে ভর্তি হতে আসছেন।
ভাইরাসজনিত এই সংক্রমণটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশনে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সময়মতো রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কিংবা উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা না পেলে ভাইরাসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ফুসফুসে নিউমোনিয়া এবং মস্তিষ্কে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও জেলা হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছে ডিজিএইচএস (DGHS)। শিশুদের সময়মতো এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করা এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের জরুরিভিত্তিতে চিহ্নিত করে কর্মসূচির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণ অভিভাবকদের উদ্দেশে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জ্বর, শুকনো কাশি ও সারা শরীরে দানা ওঠা দেখা দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বাভাবিক পানি ও ভিটামিন-সি যুক্ত তরল খাবার খাওয়ানো জরুরি, যেন শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে না পারে।



