২১ দিনেই ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, দিনে গড়ে এল ১১ কোটি ডলার
চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনেই দেশে এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে রেমিট্যান্স প্রবাহ গত কয়েক মাসের তুলনায় স্থিতিশীল ও ইতিবাচক। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়া, প্রণোদনার সুফল এবং প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পথে টাকা পাঠাতে আগ্রহ—সব মিলিয়ে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলক বাস্তবভিত্তিক হওয়ায় এবং হুন্ডির সঙ্গে ব্যবধান কমে আসায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলকেই বেছে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল রেমিট্যান্স সেবার বিস্তার ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাঠানোর সুবিধা এই প্রবাহকে আরও গতিশীল করেছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতির অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে প্রবাসী আয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকাররা বলছেন, মাসের বাকি দিনগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স আরও শক্ত অবস্থান নেবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু পরিমাণ নয়—রেমিট্যান্সের গুণগত দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশ এবং শ্রম অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এই প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের শ্রমবাজারে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রক্রিয়া সহজীকরণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং দ্রুত লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা তাদের।





