“হাসিনাকেই ঠিক করতে হবে তিনি কতদিন ভারতে থাকবেন”
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করে বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং যে পরিস্থিতিতে তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, সেটিই তাঁর ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তাঁকেই মন ঠিক করতে হবে।”
শনিবার হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিট-২০২৫-এ এনডিটিভির প্রধান সম্পাদক রাহুল কনওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করা হয়, শেখ হাসিনা কি ‘যতদিন খুশি’ ভারতে থাকতে পারবেন? জবাবে তিনি বলেন, “এটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন, আর সেই পরিস্থিতিই ভবিষ্যতে তার জন্য কী হবে, তা অনেকটা নির্ধারণ করবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা তার নিজেকেই নিতে হবে।”
জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অভিযোগ ছিল আগের নির্বাচনগুলো নিয়ে। “নির্বাচনে যদি সমস্যা থেকেই থাকে, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা।” তিনি ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুষ্ঠু ও পরিপক্ক হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে সামরিক হেলিকপ্টারে ঢাকা ছেড়ে ভারতের হিন্ডন এয়ারবেসে নামেন শেখ হাসিনা। এতে তাঁর টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। আন্দোলনে প্রায় ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত ও হাজার হাজার আহত হন। গত নভেম্বরে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিক্ষোভ দমনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’র অভিযোগে তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এছাড়া, জমি দখলের মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ডও হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গত মাসে ভারতকে চিঠি লিখে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে, যা ২০১৪ সালের এক্সট্রাডিশন চুক্তির অধীনে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও এর বৈধতা বিচার করে চলেছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনা এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন ছাড়া দেশে ফিরবেন না।
বর্তমানে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাঙ্গলো জোনে একটি সুরক্ষিত বাড়িতে থাকছেন, যা ভারত সরকারের ব্যবস্থা। জয়শঙ্করের এই মন্তব্য বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত-বিরোধী মনোভাব বেড়েছে। তিনি শেষে বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করি।”





