শ্রমিকদের ন্যায্য সুরক্ষা জরুরি: পরিবেশ উপদেষ্টা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, টেকসই বিনিয়োগ শুধু বাংলাদেশের লক্ষ্য নয়, এটি একটি বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিত। শনিবার রাজধানীর বনানীতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘অ্যামচ্যাম ডায়লগ অন ফস্টারিং সাসটেইনেবল ইনভেস্টমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “টেকসই লেনদেন ও বিনিয়োগের প্রতি আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। সম্পদ নির্ভর অর্থনীতি যদি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ভোগ করা হয়, তবে কোনো টেকসই কাঠামোই টিকবে না।” তিনি টেক্সটাইল ও জ্বালানি খাতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “শিল্পে পানির ব্যবহার নীতিমালা চূড়ান্ত করার সময় এসেছে। ভূগর্ভস্থ পানির বিনামূল্যে ব্যবহার বন্ধ করে এর যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে শিল্পকারখানাগুলো দায়িত্বশীলভাবে পানি ব্যবহার করে।”
টেক্সটাইল খাতে বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থানীয় বাজারে এখনো কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি বাধ্যতামূলক কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা বিধিমালা জরুরি।” এটি শুধু পরিবেশ নয়, শ্রমিক ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।
জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি সরকারি দপ্তরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযোগ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এটি কেবল নীতিগত প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হলেও এর জন্য আমরা দায়ী নই। তাই বৈশ্বিক টেকসই ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রয়োজন।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিঙ্গাপুরের মতো মডেল, যেখানে আইন লঙ্ঘনের হার মাত্র ৫ শতাংশ, আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।”
টেকসই বিনিয়োগের দায়ভার নিয়ে তিনি বলেন, “এটি শুধু উৎপাদকের দায় নয়। ব্যয় ক্রেতা ও উৎপাদকের মধ্যে ন্যায্যভাবে ভাগ করতে হবে, যাতে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি এই লাখ লাখ শ্রমিক, তাদের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।”
অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, সাবেক সভাপতি ও অর্থনীতিবিদ ফরেস্ট ই কুকসন এবং সহ-সভাপতি ও চেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এরিক এম ওয়াকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় ব্যবসায়ী, পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকরা টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জোর দিয়ে বলেন, “টেকসই উন্নয়ন শুধু পরিবেশ নয়, শ্রমিক ও জনগণের জীবনমানের প্রশ্ন। আমরা নীতিমালা বাস্তবায়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করে যাব।” তিনি সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।





