শহীদ ওসমান হাদির শেষ বিদায়: ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ভিড়
সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির মরদেহকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা জড়ো হয়েছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মরদেহ দেশে পৌঁছার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের ঢল নামে। প্রথমে মরদেহ সরাসরি মসজিদে আনার ঘোষণা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শহীদ ওসমান হাদির মরদেহবাহী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে হিমাগারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সেখানে মরদেহ রাখার পর কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেবেন। পরিবারের দাবি ও সম্মতির ভিত্তিতে শহীদ হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ কারণে আজকের পরিবর্তে আগামীকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর মিছিলসহ মরদেহ কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে কবি নজরুলের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, মরদেহ দেখার কোনো সুযোগ থাকবে না। সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে শহীদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেন, ‘ছাত্রজনতা শৃঙ্খলার সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন, যাতে কোনো গোষ্ঠি অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে মরদেহবাহী বিমান ঢাকায় পৌঁছালে বিমানবন্দরে হাজারো মানুষ জড়ো হন। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মরদেহ হিমাগারে নেওয়া হয়। হাদির মৃত্যুর পর থেকে শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার জন্য পরিচিত হাদিকে ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অকুতোভয় বীর শহীদ’ আখ্যা দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে জাতি। শনিবারের জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





