লোডশেডিং থেকে শিগগিরই মুক্তি নেই, অপেক্ষা আরও ২ মাসের
রাজধানীসহ সারাদেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিনে সকাল-দুপুর, মধ্য রাতে ঘন ঘন লোডশেডিং এই অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ। কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আর কোথাও কোথাও ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এমন অবস্থায় লোডশেডিং শিগগিরই কমছেনা বলে আভাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপু।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিকেলে সচিবালায় সাংবাদিকদের জবাবে জানান, রফতানিমুখী শিল্প কারখানায় গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এরফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী মনে করছেন, আগামী নভেম্বর মাসে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিনে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে সেগুলো রাতে চালানো হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিংয়ের সময়কাল বেড়েছে।
অক্টোবর মাসেই লোডশেডিং তুলে তুলে দেয়ার ইচ্ছা ছিল উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস আনা সম্ভব হয়নি। যে কারণে গ্যাস যা পাওয়া যাচ্ছে, তা শিল্প কারখানায় সরবরাহ করতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরও কিছু দিন কষ্ট করতে হবে। তবে নভেম্বর নাগাদ পরিস্থিতি আরেকটু ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় গত জুলাই মাসে জ্বলানী তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে, লোডশেডিং বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা লোডশেডিং এর ঘোষণা দেয়া হলেও এর মধ্যে কোন উন্নতি হয়নি।
এমন অবস্থায়, গত ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডের মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়ায়, ঢাকাসহ দেশের চার বিভাগের প্রায় ৬০ ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই রাজধানীতে লোডশেডিং বাড়তে থাকে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন থাকলেও সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতির প্রভাবেই লোডশেডিং বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরো পড়ুন : ‘বাংলাদেশ থেকে ব্রুনাইয়ে সরাসরি চলবে বিমান’





