রূপনগরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: অবৈধ রাসায়নিক গুদাম ছিল ফায়ার সার্ভিসের তালিকায়
ফায়ার সার্ভিসের তৈরি অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে আগুনে পুড়ে যাওয়া আলম ট্রেডার্স নামের রাসায়নিক গুদামও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম।
মিরপুরের রূপনগরে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
তাজুল ইসলাম আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে এই গুদাম সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল এবং এটির বিরুদ্ধে তিনবার নোটিশও জারি করা হয়েছিল। গুদামটির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছিল।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। আগুন বিস্ফোরণের মাধ্যমে পাশের চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির দোতলায় স্মার্ট প্রিন্টিং নামে একটি টি-শার্ট প্রিন্টিং কারখানা এবং তিন ও চারতলায় আরএন ফ্যাশন নামে একটি পোশাক কারখানা ছিল। পরে এই ভবনের দোতলা ও তিনতলা থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনেরা ১০ জনের মরদেহ শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন।
রাসায়নিক দ্রব্যের তীব্রতার কারণে গুদামে এখনো সার্চ অপারেশন শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই কাজে আরও ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। বর্তমানে পানি ছিটিয়ে রাসায়নিক দ্রব্যগুলো নিরাপদ করার কাজ চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা গতকাল সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছি। গতকালই গার্মেন্টস অংশের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। পাশের আলম ট্রেডার্স নামের কেমিক্যাল গুদামের আগুন আজ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এই গুদামে ছয় থেকে সাত ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য রয়েছে। তবে এগুলোর ধরন বা মাত্রা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। গুদামটি রাসায়নিক দ্রব্যে পরিপূর্ণ। পানি ছিটিয়ে এগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। তিনি জানান, ‘এটি সময়সাপেক্ষ কাজ। আমরা পদ্ধতিগতভাবে কাজ করছি, প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, ড্রোনের সাহায্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
তাজুল ইসলাম জানান, আলম ট্রেডার্সের ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ভবনের পিলারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাজউক ও ভবন বিশেষজ্ঞরা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করবেন। বর্তমানে এখানে অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তার স্বার্থে ধাপে ধাপে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আলম ট্রেডার্সের মূল দরজায় তালা দেওয়া ছিল। হাইড্রলিক স্প্রেডার ও কাটার দিয়ে তালা কেটে দরজা খুলতে হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, গুদামে সম্ভবত কেউ ছিল না। তবে সার্চ অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কেউ ছিল কি না।





