রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে তর্কবিতর্কে হতাশ বিএনপি মহাসচিব
রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে চলমান তর্কবিতর্ক হতাশা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রে তর্কবিতর্ক থাকা স্বাভাবিক হলেও এটি মাঝেমধ্যে হতাশার পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। শনিবার (২৩ আগস্ট, ২০২৫) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের সংগঠন অর্পণ আলোক সংঘ।
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি আশাবাদী থাকতে চান, কিন্তু পরিস্থিতি তাঁকে হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি একটি প্রগতিশীল সমাজ, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য কমানোর জন্য একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা চাই। কিন্তু যখন দেখি ভিন্নভাবে চিন্তা করা হচ্ছে, মানুষের চিন্তাধারাকে বিপথে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে এবং উগ্রবাদ ছড়ানোর প্রয়াস চলছে, তখন হতাশা আসাটাই স্বাভাবিক।”
তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকাঠামোয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, বিচ্ছিন্নভাবে বা জোড়াতালি দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি—সবকিছুই রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, জনগণ কাদের নির্বাচিত করছে এবং নির্বাচিত ব্যক্তিরা দেশকে কীভাবে পরিচালনা করছে, তার ওপর এসব বিষয় নির্ভর করে।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে সর্বস্বান্ত করেছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, “দেড় বছরে এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়।” তিনি দুর্নীতিকে দেশের রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “উপজেলা চেয়ারম্যানের কাজ সংসদ সদস্যরা নিয়ে নিয়েছেন, যা তাঁদের কাজ নয়। আইন প্রণয়নের পরিবর্তে তাঁরা রাস্তা উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ, এমনকি গাড়ি কেনার বিষয়েও ব্যস্ত থাকেন। রাষ্ট্রের পুরো ব্যবস্থাই দখলের শিকার।”
তিনি আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারাও অসহায়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “মফসসলের একজন শিক্ষককে সমস্যা সমাধানের জন্য ঢাকায় আসতে হয়। এটা প্রয়োজন ছিল না। এর জন্য দায়ী ব্যবস্থা। ঘুষ না পেলে সমস্যা সমাধান হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, এমনকি নার্স নিয়োগেও ঘুষের প্রচলন চলছে।”
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, অর্থনীতিবিদ এম মাসরুর রিয়াজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এবং সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। সভাটি সঞ্চালনা করেন অর্পণ আলোক সংঘের চেয়ারম্যান বীথিকা বিনতে হোসাইন।





