গোবিন্দ-সুনীতার বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় নতুন মোড়
দীর্ঘদিনের গুঞ্জন এবার সত্যি হলো। বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দীর্ঘ ৩৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরেছে। সুনীতা মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছেন। হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৫-এর ধারা অনুযায়ী দায়ের করা এই মামলায় সুনীতা গোবিন্দের বিরুদ্ধে পরকীয়া, সংসারে নির্যাতন এবং দাম্পত্যে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে গোবিন্দকে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি। ফলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছেন। অন্যদিকে, সুনীতা গত জুন মাস থেকে নিয়মিত আদালতের শুনানি এবং পরামর্শদাতা সেশনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে তাঁর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সুনীতার আবেগঘন প্রকাশ
কিছুদিন আগে সুনীতা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভ্লগে দাম্পত্য জীবনের কষ্টের কথা খোলাখুলি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি ঈশ্বরের কাছে বারবার প্রার্থনা করেছি, যাতে আমার বিয়ে টিকে যায়। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।” কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি আরও বলেন, “যে আমার সংসার ভাঙার চেষ্টা করবে, তার ভালো হবে না। একজন ভালো মানুষকে এভাবে আঘাত করা উচিত নয়। আমি এখন আর কাউকে বিশ্বাস করি না।”
সুনীতার এই ভ্লগে তাঁর মানসিক অবস্থা এবং গোবিন্দের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে তীব্র ক্ষোভের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে তিনি তাঁদের দুই সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকছেন। এমনকি চলতি বছর তাঁর জন্মদিনেও তাঁকে একা সময় কাটাতে দেখা গেছে, যা তাঁর বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়।
গোবিন্দের পক্ষ থেকে অস্বীকৃতি
অন্যদিকে, গোবিন্দের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, এই বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন অতিরঞ্জিত। গোবিন্দের ম্যানেজার শশী বলেন, “প্রতিটি দম্পতির মধ্যেই কিছু মতবিরোধ থাকে। এগুলো পুরোনো বিষয়, যেগুলোকে মিডিয়া এবং কিছু লোক নিজেদের সুবিধার জন্য মসলা মিশিয়ে প্রচার করছে।” তবে গোবিন্দ নিজে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
দীর্ঘ দাম্পত্যের অবসান?
গোবিন্দ এবং সুনীতা ১৯৮৭ সালে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান, টিনা এবং যশবর্ধন আহুজা। দীর্ঘ ৩৬ বছরের দাম্পত্যে তাঁরা একসঙ্গে অনেক ঝড়ঝাপটা পেরিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গোবিন্দের স্বাস্থ্য সমস্যা এবং কর্মজীবনের উত্থান-পতন তাঁদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সুনীতার আইনি পদক্ষেপ এবং গোবিন্দের নীরবতা এই গুঞ্জনকে আরও জোরদার করেছে।
আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং গোবিন্দের প্রতিক্রিয়া এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে ইঙ্গিত দেবে। তবে এই ঘটনা বলিউডে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।





