ভারতে বাংলাদেশি মিশনে হামলা-ভাঙচুর: ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব
ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কার্যালয়ে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে সহিংস বিক্ষোভ এবং ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে উগ্রবাদীদের ভাঙচুরের ঘটনা আলোচনায় তোলা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারতে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।’ পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানায়। এসব ঘটনা কেবল কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে না, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি ও সহনশীলতার নীতিকেও ক্ষুণ্ন করে।
বাংলাদেশ ভারত সরকারকে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়, ভারত সরকার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এতে কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও স্থাপনার মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে।
এর আগে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে উগ্র হিন্দু সংগঠনের বিক্ষোভকারীরা হুমকি দেয় এবং শিলিগুড়ির ভিসা সেন্টারে ভাঙচুর চালায়। এসব ঘটনা ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ এগুলোকে কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এর আগে ভারতের প্রেস নোট প্রত্যাখ্যান করে নিরাপত্তা ঘাটতির প্রশ্ন তুলেছেন। বাংলাদেশ ভারতের কাছে মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।





