ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৫ শেষ করলো বাংলাদেশ
বছরের শেষ ম্যাচ, প্রতিপক্ষ চিরপ্রপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। আর এই ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতলো ১-০ গোলে! কিংস অ্যারেনা বসুন্ধরা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ এশিয়ান কাপ ২০২৭ বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ড-রবিন ম্যাচে শেখ মোরসালিনের একমাত্র গোলে ভারতকে হারিয়ে ২০২৫ সালকে জয়ের হাসি দিয়ে বিদায় জানালো বাংলাদেশ।
ম্যাচের ১১তম মিনিটেই দর্শকদের উন্মাদনায় মাতিয়ে দেন মোরসালিন। রাকিব হোসেনের বামপ্রান্ত থেকে দেওয়া নিখুঁত ক্রস ধরে ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুকে পরাস্ত করে জাল কাঁপান এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ইনজুরি থেকে ফিরেই মাত্র এক ম্যাচ পরে মোরসালিন যেন বললেন, “আমি ফিরে এসেছি!”
প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ছিল আধিপত্যকারী। ২০ মিনিটে মিতুল মারমার ভুলে খালি পোস্টে ভারতীয় মিডফিল্ডার লালিয়ানজুয়ালার শট হেড করে বাইরে পাঠিয়ে দলকে বাঁচান হামজা চৌধুরী। ৩৬ মিনিটে তপু বর্মন ও ভারতের বিক্রম প্রতাপের সংঘর্ষে মাঠ গরম হয়, দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধে ভারত মরিয়া হয়ে ওঠে। ৬০ মিনিটে একসঙ্গে মোহাম্মদ সামাদ ও ব্রাইসন ফার্নান্দেজ নামান কোচ খালিদ জামিল। ব্রাইসনের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৭৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে ইমন একাই গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট মারেন দুর্বল।
যোগ করা ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমে বাংলাদেশের হৃদকম্পন বেড়ে যায় – কারণ সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে পয়েন্ট হারিয়েছে দল। কিন্তু আজ হামজা-তপু-তারিকের দুর্গ ভাঙতে পারেনি ভারত। শেষ বাঁশি বাজতেই ২২ হাজার দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারে মুখরিত হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম।
ম্যাচ-পরবর্তী পরিসংখ্যান -গ্রুপ**
- বাংলাদেশ: ৫ ম্যাচ, ১ জয়, ২ ড্র, ৫ পয়েন্ট → ৩য় স্থান
- ভারত: ৫ ম্যাচ, কোনো জয় নেই → তলানিতে বিদায়
উল্লেখ্য, গ্রুপ সি থেকে সিঙ্গাপুর ও হংকং ইতোমধ্যে এশিয়ান কাপের মূলপর্বে উঠেছে। আজকের ম্যাচ ছিল দুই দলের জন্যই নিয়মরক্ষার, কিন্তু মর্যাদার লড়াইয়ে বাংলাদেশই শেষ হাসি হেসেছে।
বাংলাদেশের একাদশ মিতুল মার্মা – তপু বর্মন, হামজা চৌধুরী, তারিক কাজী, সাদ উদ্দিন – সোহেল রানা (অধিনায়ক), রাকিব হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, জায়ান আহমেদ – শেখ মোরসালিন, শমিত সোম।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে বেঞ্চে রেখে কোচ কাবরেরার এই সাহসী একাদশ শেষ পর্যন্ত ফল দিয়েছে। ইনজুরি থেকে ফেরা মোরসালিন-শমিত জুটি আবারও প্রমাণ করলেন – বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই নিরাপদ।





