“বাংলাদেশকে যেন আর পেছনে ফিরে তাকাতে না হয়”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও উপযুক্ত জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। আর কখনও যেন বাংলাদেশকে পেছনে ফিরে তাকাতে না হয়। বাংলাদেশ গড়ে উঠবে স্মার্ট উন্নত দেশ হিসেবে।
আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘বই উৎসব’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের একটা স্বপ্ন ছিল যে শিক্ষক হবো। সেটাও আবার প্রাইমারি স্কুলের। আমি তাই হতে চেয়েছিলাম। ওটা আমার খুব পছন্দের ছিল। কিন্তু আর হলো না। কারণ আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছেন। এ বাংলাদেশের মানুষের কথা বললেই তখনকার সরকার তাকে গ্রেফতার করতো, জেলে নিয়ে যেতো। বারবার আমাদের পড়াশোনায়ও বাধাগ্রস্ত হতো। তারপরও চেষ্টা করতাম। তবে পড়াশোনা শেষপর্যন্ত আর শেষই করতে পারিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন মাস্টার্সে ভর্তি ছিলাম। তখনই আমার বাবা-মা, ভাই সবাইকে মেরে ফেলা হলো। আমার ছোটবোন শেখ রেহানারও তখন পড়াশোনা চলছিল। আমরা দুজন ছিলাম বিদেশে। কিন্তু তখন আর দেশে ফিরতে পারিনি। সেসময় যে সরকার ছিল, তারা আমাদের দেশে আসতেও দেয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রায় ছয় বছর আমাদের বিদেশে থাকতে হয়েছিল, রিফিউজি হিসেবে। ফলে আমার মাস্টার্সটাও শেষ করতে পারিনি, আমার ছোটবোনও পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি। তারপরও আমরা শিক্ষাটাকে গুরুত্ব দেই। আমাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেই, তোমাদের কোনো সম্পদ আমরা রাখবো না। একটাই তোমাদের সম্পদ সেটা হলো শিক্ষা।’
পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ জন। তাদের জন্য বই ছাপা হয়েছে মোট ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি।
আরও পড়ুনঃ নতুন শিক্ষাবর্ষের ‘বই উৎসব’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী





