প্রতিবছর কৃষিজমি হারাচ্ছে ১% হারে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় এক শতাংশ হারে আবাদযোগ্য জমি হ্রাস পাচ্ছে, যা খাদ্যনিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। এই হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের মোট জমি প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কমে যাচ্ছে বছরে, যার মধ্যে শিল্পায়ন, আবাসন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন অন্যতম কারণ। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
আজ সচিবালয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে উপদেষ্টা বাংলাদেশের কৃষিজমি সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, এডিবিকে কৃষিজমির মানচিত্র প্রণয়নে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা জোরদারে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা জরুরি, যাতে টেকসই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। রিজওয়ানা হাসান এডিবিকে কৃষিজমির ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি, স্যাটেলাইট মনিটরিং এবং ভূমি জোনিং নীতি বাস্তবায়নে সহায়তার আহ্বান জানান।
এডিবির উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এডিবি সদর দপ্তরের সিনিয়র ডিরেক্টর তারিক এইচ. নিয়াজি এবং এডিবি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং। তারিক এইচ. নিয়াজি বাংলাদেশের সঙ্গে এডিবির দৃঢ় অংশীদারিত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানান, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিতে এডিবি প্রস্তুত। হো ইউন জিয়ং জানান, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণে এডিবির চলমান উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে মার্কেট ডেভেলপমেন্ট অফিসের একটি মিশন ঢাকা সফর করে সম্ভাব্য সহযোগিতার দিক নিয়ে আলোচনা করবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য নদী পুনরুদ্ধার, পানি ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন সম্পর্কিত পাইলট প্রকল্পসমূহ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন। এর মধ্যে গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় নদী শাসন, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর আওতায় উপকূলীয় সুরক্ষা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এডিবির প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট সমীর খাতিওয়াদা, প্রিন্সিপাল পাবলিক সেক্টর স্পেশালিস্ট সন্দীপ ভট্টাচার্য এবং সিনিয়র ক্লাইমেট চেঞ্জ অফিসার মৌসুমি পারভীন। এই সহযোগিতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।





