নির্বাচনের যুদ্ধ সহজ নয়, সিরিয়াস না হলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী কয়েকদিন পরে অনুষ্ঠিত হতে চলা জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত সহজ মনে হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে ততটা সহজ নয়। এক বছর আগে তিনি এই কথা বললে অনেকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু আজ সকলেই তার কথার গভীরতা অনুভব করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মানুষের রায় আপনার দলের পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে আনতে হবে। নির্বাচনের দিন, ভোটের দিন, ভোটের মাধ্যমে রায় আনতে হবে।” এই নির্বাচনকে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সতর্ক করেন, যদি এখনও সিরিয়াস না হই, তাহলে দেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপির সপ্তাহব্যাপী ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মশালার উদ্বোধনী সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এই কর্মশালায় দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই সাতদিনের (৭-১৩ ডিসেম্বর) কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো দলের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে আসন্ন নির্বাচনে জনসমর্থন বাড়ানো যায়। এই কর্মশালায় তারেক রহমান বলেন, “দেশের জন্য কী করতে চাই, সেটা যদি শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি, তাহলে সংকুচিত হয়ে যাবো। আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া।”
তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “গত স্বৈরাচারের ১৫ বছরের ষড়যন্ত্র সবাই মোকাবিলা করেছেন, তাহলে এখন কেন সামনের নির্বাচনী যুদ্ধ মোকাবিলা করতে পারবেন না? কেন, আপনাদের দলের পরিকল্পনা জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবেন না?” তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংস্কারের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ইতিমধ্যে ২৩৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে, যাতে দলীয় সভাপতি খালেদা জিয়া তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে মনোনয়ন নিয়ে ৪০টির বেশি আসনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যা দলীয় ঐক্যের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এই কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। সভায় অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতিকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের এই বক্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের কাছে দলীয় পরিকল্পনা ছড়িয়ে দেওয়ার উপর জোর দিয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ভূমিকাকে নির্ধারণ করবে।





