দ্য স্টেটসম্যান-এর সম্পাদকীয়: রাজনৈতিক সমঝোতাই পথ দেখাবে
নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। একসময় গণতান্ত্রিক নবায়ন ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত এই প্রক্রিয়া এখন অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য স্টেটসম্যান-এর এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, সমস্যার মূলে রয়েছে ড. ইউনূসের ‘সংস্কার প্রথম, নির্বাচন পরে’ দৃষ্টিভঙ্গি, যা দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর তাৎক্ষণিক ক্ষমতার প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত, যা দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসে আধিপত্য বিস্তারকারী শক্তি, একটি ভূমিকম্পের মতো পদক্ষেপ ছিল। এটি বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপির জন্য রাজনৈতিক মাঠ পরিষ্কার করার সুযোগ হিসেবে দেখা হলেও, দ্রুতই ধৈর্যের অভাব প্রকাশ পেয়েছে। বিএনপি ও অন্যান্য অংশীদাররা এখন দ্রুত নির্বাচন ও ন্যূনতম সংস্কারের জন্য চাপ দিচ্ছে।
ড. ইউনূসের সংস্কারের ম্যান্ডেট, যা একসময় ঐক্যের প্রতীক ছিল, এখন বিভক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ পক্ষপাতিত্ব ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগে সমালোচিত। কিছু উপদেষ্টার নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ সরকারের নিরপেক্ষতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এছাড়া, বিতর্কিত পাবলিক সার্ভিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্সের কারণে সিভিল সার্ভিসে অসন্তোষ তীব্র হয়েছে, যা ব্যাপক প্রতিবাদ ও ব্যুরোক্রেটিক কার্যক্রমে স্থবিরতার হুমকি তৈরি করেছে।
জনগণের মধ্যে ড. ইউনূসের সংস্কারের প্রতি প্রাথমিক সমর্থন এখন হতাশায় রূপ নিচ্ছে। স্পষ্ট সময়সীমা বা বাস্তব অগ্রগতির অভাবে জনগণের আস্থা কমছে, যা অন্তর্বর্তী শাসনের ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে। এর মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন নিশ্চিত করার বার্তা প্রাতিষ্ঠানিক অধৈর্যের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূস একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি—মহৎ উদ্দেশ্যই যথেষ্ট নয়। ব্যাপক ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার টেকসই পরিবর্তনের পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপে পরিণত হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার যদি সংস্কার বা নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে তার বৈধতা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। আপোস এখন অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন এক নাজুক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে আদর্শবাদের চেয়ে বাস্তববাদী রাজনৈতিক সমঝোতাই পথ দেখাবে।





