‘দেবদাস’ থেকে বলিউডের তারকা: হতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক
এক সময় সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু ২০০২ সালে একটি সিনেমা তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’-এর জাঁকজমক, শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের মুগ্ধকর অভিনয় তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে। সেই মুহূর্তে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ স্বপ্ন দেখেন বলিউডের স্বপ্নীল জগতে নিজের নাম লেখানোর। আজ, ৩৯তম জন্মদিনে, তাঁর সেই স্বপ্ন অর্ধেক বাস্তব, অর্ধেক এখনো অধরা।
২০০৯ সালে ‘আলাদিন’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন জ্যাকুলিন। এরপর ‘হাউসফুল’ সিরিজ, ‘মার্ডার ২’, ‘কিক’, ‘জুড়ুয়া ২’-এর মতো ৪০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। ডেভিড ধাওয়ান, রোহিত শেঠি, মোহিত সুরির মতো নামকরা পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “‘দেবদাস’ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। বানসালির সৃষ্ট জগৎ যেন স্বপ্নের মতো। তাঁর সঙ্গে কাজ করা আমার বড় স্বপ্ন।”
২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবদাস’ ভারতে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। ছবির গান, পোশাক, শাহরুখের ‘দেবদাস’, মাধুরীর ‘চন্দ্রমুখী’ আর ঐশ্বরিয়ার ‘পার্বতী’ দর্শকের মনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখেছে। জ্যাকুলিনের জন্যও এই ছবি ছিল এক টার্নিং পয়েন্ট, যা তাঁকে বলিউডের প্রতি আকৃষ্ট করে।
জ্যাকুলিনের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১১ আগস্ট, বাহরাইনে। তিনি শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত সুরকার এলরয় ফার্নান্দেজ ও মালয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত কিমের কন্যা। বহুভাষিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিন সিংহলি, আরবি, হিন্দি, ইংরেজিসহ একাধিক ভাষায় সাবলীল। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগে স্নাতক শেষ করে শ্রীলঙ্কায় টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৬ সালে ‘মিস ইউনিভার্স শ্রীলঙ্কা’ খেতাব জিতে আলোচনায় আসেন।
বলিউডের বাইরেও জ্যাকুলিন সফল। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে তাঁর নিজস্ব একটি দ্বীপ আছে, যা ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারার দ্বীপের কাছাকাছি। এছাড়া তিনি একটি রেস্তোরাঁরও মালিক। ব্যক্তিগত জীবনে বাহরাইনের যুবরাজ বিন রশিদ অল খালিফার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল, যদিও তা টেকেনি। সালমান খানের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
তবে জ্যাকুলিনের পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাঁকে চেহারায় অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এক সহ-অভিনেতা তাঁকে নাকের গড়ন বদলাতে ও বয়স লুকাতে বলেছিলেন, কারণ বলিউডে ৩০ পেরোনো অভিনেত্রীদের নাকি কাজ মেলে না। এছাড়া, ভারতের একটি অর্থ পাচার মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে নাম জড়ানোয় তিনি বিতর্কে পড়েন। জ্যাকুলিন অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই ঘটনা তাঁর জন্য কঠিন সময় ছিল।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জ্যাকুলিন ক্যারিয়ারে মনোযোগী রয়েছেন। তবে ‘দেবদাস’-এর মায়াবী জগৎ তাঁর হৃদয়ে আজও অমলিন। ভক্তরা জন্মদিনে প্রত্যাশা করতেই পারেন, তাঁর সেই স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে।





