গেন্ডারিয়ায় ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে যুবকের মৃত্যু, বাবা-মা দগ্ধ
পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে মেজবাহ উদ্দিন (২৮) নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বাকি দুজন, মোহাম্মদ মোসলিম (৬৫) ও তার স্ত্রী সালমা বেগম (৫০), আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাত ২টার দিকে, গেন্ডারিয়ার হরিচরণ রোডে একটি বাসার পাশে। বৃষ্টির কারণে ট্রান্সফরমারে বারবার স্পার্কিং হচ্ছিল, যা একপর্যায়ে আগুনে রূপ নেয়। এই আগুন বাসার ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে মোহাম্মদ মোসলিম, সালমা বেগম এবং তাদের ছেলে মেজবাহ উদ্দিন দগ্ধ হন। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শুক্রবার ভোরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
মোহাম্মদ মোসলিমের মেয়ে তাসনুভা তাবাসসুম জানান, “আমাদের বাসার দোতলার পাশে বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার বসানো ছিল। রাতে বৃষ্টির কারণে ট্রান্সফরমার বারবার স্পার্ক করছিল। একপর্যায়ে আগুন ধরে যায় এবং তা বাসার ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আমার বাবা, মা এবং ভাই গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।”
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ শিকদার শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জানান, মেজবাহ উদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মোহাম্মদ মোসলিমের শরীরের ৯০ শতাংশ এবং সালমা বেগমের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। উভয়ের শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে তাদের জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকে জানিয়েছেন, পুরান ঢাকার সংকীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি রয়েছে, যা এ ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।





