গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: শরীরে ৯টি গভীর ক্ষত! ৮ জন গ্রেপ্তার
গাজীপুরে নৃশংসভাবে খুন হওয়া সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছে পুলিশ। রোববার রাতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ এই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তুহিনের গলা, ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৯টি গুরুতর ক্ষত পাওয়া গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
৩৮ বছর বয়সী আসাদুজ্জামান তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সন্ত্রাসীদের ভিডিও ধারণের সময় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ফয়সাল ওরফে কেটু মিজানকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার তুহিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ এন এম আল মামুন জানান, তুহিনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ৯টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা আকারে ভিন্ন হলেও সবই গভীর ও গুরুতর। এই আঘাতগুলোই তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রিমান্ড শেষে সোমবার আদালতে হাজির করা হবে। তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন বলে আমরা আশাবাদী।” গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরেক আসামি আরমান এখনো পলাতক। পুলিশ জানায়, তাকেও শিগগির গ্রেপ্তার করা হবে। তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া, হত্যার আগে সংঘটিত আরেকটি হামলার ঘটনায় আহত বাদশা মিয়ার ভাই আরেকটি মামলা করেছেন। উভয় মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবি
তুহিনের হত্যাকাণ্ড ও দেশব্যাপী সাংবাদিকদের উপর হামলা, গুম, খুন ও হয়রানির প্রতিবাদে টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি ও গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে এই কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতা সুমন চৌধুরী, এম কাজল খান, রাজু আহম্মেদ, আবু সালেহ, পলাশ সরকারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তুহিন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গাজীপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডে সরকার ও পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউর রহমান বলেন, “শুধু ভিডিও ধারণের জন্য তুহিনকে হত্যা করা হয়নি। এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র আছে। গ্রেপ্তারকৃতরা গাজীপুরের বাসিন্দা নয়, তাহলে তাদের পৃষ্ঠপোষক কারা? এদের চিহ্নিত করতে হবে।” তিনি গাজীপুরে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।





