খামেনিকে হত্যা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা যোগাযোগের তথ্য ফাঁস
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান হয়েছিল, অভিযান সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র এমনটাই দাবি করেছে। হামলার প্রস্তুতির সময় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পায়, যা অভিযানের গতিপথ বদলে দেয়।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাফেরা ও নিরাপত্তা প্যাটার্ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল সিআইএ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রুটিন, বৈঠকের ধরন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে সংস্থাটি আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে। এ তথ্যের একটি অংশ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযানের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আসে শনিবার সকালের একটি নির্দিষ্ট বৈঠককে ঘিরে। সিআইএ জানতে পারে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে খামেনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন। এই ‘টাইম-সেনসিটিভ’ তথ্যই হামলার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত রূপ দেয় বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
তবে ওয়াশিংটন বা তেল আবিব—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দাবি স্বীকার করেনি। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অভ্যন্তরে তথ্য সংগ্রহে সক্রিয়—এমন ধারণা আন্তর্জাতিক মহলে প্রচলিত। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সমন্বয় নতুন নয়। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আগে সরাসরি গোয়েন্দা সহযোগিতা—এই অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা ও সময় নির্বাচনই এ ধরনের অভিযানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। খামেনির মতো উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়। তাঁর নিরাপত্তা বলয় বহুস্তরবিশিষ্ট এবং অত্যন্ত গোপনীয়। ফলে কয়েক মাসের নজরদারি ছাড়া এমন তথ্য পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি এ ধরনের গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছে তেহরান।





