ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা: ১৩১ শহর ধ্বংসস্তূপ, নিহত ৫৫৫ ছাড়িয়ে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের ১৩১টি শহর ও কাউন্টি আক্রান্ত হয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৫৫৫ ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (২ মার্চ, ২০২৬) ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই ভয়াবহ তথ্য জানিয়ে জানিয়েছে, হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
হামলা শুরু হয়েছে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক স্থাপনা, নেতৃত্বের অবস্থান এবং কৌশলগত সাইটগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইসহ শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হন।
এই অভিযানকে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নাম দিয়েছে। লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন এবং তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় ১৩১টি কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা ৫৫৫-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫-১৮০ জন নিহত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে আহতদের বের করে আনছে, বই-খাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১ লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের নেটওয়ার্ক মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সমর্থনের জন্য প্রস্তুত।
ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে, যাতে লেবাননে ৩১ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলে ১১ জন নিহত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ জন সেনা নিহত হয়েছে। কুয়েত ভুল করে ৩টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
এই সংঘাতের প্রভাব বিশাল। তেলের দাম আকাশছোঁয়া, শিপিং ব্যাহত, ফ্লাইট বাতিল। বিশ্ব নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, অভিযান চলবে যতক্ষণ না লক্ষ্য অর্জিত হয়।





