ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা: ৬ মাসের শিশুসহ একই পরিবারের ছয়জন নিহত
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই হামলা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ইলাম প্রদেশ আবারও সহিংসতার শিকার হলো। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আইভান শহরের একটি আবাসিক এলাকায় চালানো হামলায় একই পরিবারের ছয়জন সদস্য প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ছয় মাস বয়সী একটি শিশু, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলাটি রাতের দিকে সংঘটিত হয়। তখন অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আকস্মিক বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা নিহতদের মরদেহ বের করেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত পরিবারের সদস্যরা সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে বাবা-মা, শিশুসন্তান এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য ছিলেন। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের বাড়ির জানালা ও দরজা ভেঙে যায়।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত হামলার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের হামলাকে “আগ্রাসন” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব প্রায়ই সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের রূপ নেয়।
ইলাম প্রদেশ ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এটি ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় বহু সময় নিরাপত্তা ও সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এমন ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সামরিক হামলা চালানোর সময় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বাস্তবে অনেক সময়ই সেই নিয়ম মানা হয় না।





