জাতীয় ফিচার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ

রাজধানীর বিজয়নগরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে মোটরসাইকেল থেকে নামা দুর্বৃত্তরা গুলি করে গুরুতর আহত করেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বক্স কালভার্ট এলাকায় এই হামলায় তার মাথায় গুলি লাগে, ফলে তিনি গভীর অচেতনাবস্থা (কোমা) এবং লাইফ সাপোর্টে চলে যান। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বিকেল সাড়ে চারটেয় গুলি বের করার জন্য অস্ত্রোপচার চলছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাদির সঙ্গী মো. রাফি বলেন, “জুমার নামাজ শেষে আমরা হাইকোর্টের দিকে যাচ্ছিলাম। হাদি ভাই রিকশায়, আমি পেছনের রিকশায়। বিজয়নগর কালভার্ট এলাকায় পৌঁছাতেই একটা মোটরসাইকেল থেকে দুজন লোক এসে হাদি ভাইকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।” ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তিনটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা আসে এবং একটি থেকে হাদিকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু এখনও তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

ঢামেকের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোশতাক আহমেদ বলেন, “ওসমান হাদির অবস্থা খুবই গুরুতর। মাথায় গুলি লেগেছে, তিনি কোমায় আছেন। সিটিস্ক্যান করে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে।” সঙ্গী মিসবাহ জানান, গুলিটি তার বাম কানের নিচে লেগেছে, যা চোয়াল ও মাথার ক্ষতি করেছে। বর্তমানে তার জন্য ‘বি নেগেটিভ’ রক্তের প্রয়োজন হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই হামলায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংসতা অগ্রহণীয়। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।” তিনি আহত হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা এটিকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকুশীচক্র’ বলে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং তদন্তে সরকারি উচ্চপদস্থদের সম্পৃক্ত করার দাবি তুলেছেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হাদির সঙ্গে রিকশায় আর কেউ ছিল না, তবে তার পেছনের রিকশায় সঙ্গীরা ছিলেন। গত নভেম্বর মাসে হাদি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি ৩০টি নম্বর থেকে হুমকি পাচ্ছেন। ১৪ নভেম্বরের এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আওয়ামী লীগের খুনিরা আমাকে হত্যা, বাড়িতে আগুন এবং মা-বোন-স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে। তারা আমার উপর সর্বক্ষণ নজরদারি করছে।” এই ঘটনা নির্বাচনী সহিংসতার নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র