হরমুজে নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের, ইরানের পথে জাহাজে মার্কিন হামলা
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ অমান্য করে দেশটির দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার এম/ভি ‘ভেলা নোভা’ নামের জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জাহাজটিকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সেটি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। পরে মার্কিন নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালিয়ে জাহাজটির চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলার পর ‘ভেলা নোভা’ আর অবরোধ ভেঙে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না।
গত ১৪ জুলাই ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অবরোধ আরোপ করার পর কোনো জাহাজকে জোর করে থামানোর ঘটনা এটি তৃতীয়। সেন্টকমের হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ৫৫টি জাহাজকে অবরোধ এড়িয়ে ইরানের দিকে যাওয়ার চেষ্টা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুটি জাহাজে মার্কিন বাহিনী উঠে তল্লাশিও চালিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় মার্কিন বাহিনী নয়টি জাহাজ অচল করে এবং ১৪০টির বেশি জাহাজকে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে বলে সেন্টকম জানিয়েছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তেহরানের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, তার অন্যতম হলো ইরানের ওপর আরোপ করা এই অবরোধ প্রত্যাহার।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হতো। তবে ইরানের হামলার কারণে বর্তমানে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, বর্তমানে প্রণালীটির ওপর ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং পুরো নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।





