ফিচার

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার হার্টের ক্ষতি করছে

আজকের ডিজিটাল যুগে, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ এবং সুবিধাজনক করে তুলেছে, কিন্তু এর সাথে সাথে এটি অনেক নতুন চ্যালেঞ্জও এনেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল “ডিজিটাল স্ট্রেস” (হৃদয়ের উপর ডিজিটাল স্ট্রেস)।

ডিজিটাল স্ট্রেস বলতে প্রযুক্তির অত্যধিক ব্যবহার এবং ডিজিটাল বিশ্বের চাহিদার কারণে সৃষ্ট মানসিক ও শারীরিক চাপকে বোঝায়। এই চাপ কেবল আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরই প্রভাব ফেলে না, বরং এটি আমাদের হৃদরোগের উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। আসুন জেনে নিই কিভাবে (ডিজিটাল স্ট্রেস হার্টের উপর প্রভাব ফেলে)।

সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ: সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত সক্রিয় থাকা এবং অন্যদের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করা মানসিক চাপ বাড়ায়।
অনলাইন কাজের চাপ – বাড়ি থেকে কাজ করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করার ফলে মানুষ ২৪/৭ উপলব্ধ থাকার চাপ অনুভব করে।
তথ্য বৃদ্ধি: ইন্টারনেটে প্রচুর পরিমাণে তথ্য মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
সাইবার বুলিং এবং অনলাইন হয়রানি – অনলাইন জগতে নেতিবাচক মন্তব্য এবং বুলিংও মানসিক চাপের কারণ হয়।
আরও পড়ুন: এই ৫টি হলুদ ফল এবং সবজি হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী, ধমনীতে আটকে থাকা ময়লাও পরিষ্কার হবে
ডিজিটাল স্ট্রেস এবং হৃদরোগ

ডিজিটাল স্ট্রেস সরাসরি আমাদের হৃদরোগের স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত। মানসিক চাপের কারণে শরীরে অনেক হরমোন এবং শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, যা হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রক্তচাপ বৃদ্ধি- মানসিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা হৃদপিণ্ডের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় ।
হৃদস্পন্দনের অনিয়ম- ডিজিটাল চাপের কারণে মানুষের হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থা অ্যারিথমিয়া (অনিয়মিত হৃদস্পন্দন) সৃষ্টি করতে পারে, যা হৃদপিণ্ডের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
ধমনীর প্রদাহ এবং শক্ত হয়ে যাওয়া – মানসিক চাপ শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ধমনীগুলিকে শক্ত করে তুলতে পারে। এটি হৃদপিণ্ডে রক্ত ​​প্রবাহ হ্রাস করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় ।
ঘুমের অভাব- ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। ঘুমের অভাব হৃদরোগের জন্য ক্ষতিকর এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা- ডিজিটাল চাপের কারণে, মানুষ প্রায়শই ধূমপান, মদ্যপান এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই অভ্যাসগুলি হৃদরোগের জন্য ক্ষতিকর।
ডিজিটাল চাপ কীভাবে কমানো যায়?
ডিজিটাল ডিটক্স – মাঝে মাঝে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন এবং আপনার মনকে শান্ত করার জন্য সময় নিন।
সোশ্যাল মিডিয়ার সীমিত ব্যবহার- সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় করা সীমিত করুন এবং ইতিবাচক বিষয়গুলিতে মনোনিবেশ করুন।
নিয়মিত ব্যায়াম – শারীরিক কার্যকলাপ মানসিক চাপ কমাতে এবং হৃদরোগের উন্নতিতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস- একটি স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন, যা হৃদরোগের জন্য উপকারী।
পূর্ণ ঘুম- প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা গভীর ঘুম জরুরি।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার