অন্যান্য ফিচার বিশ্ব সংযোগ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, তবে দিনক্ষণ অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, তবে দিনক্ষণ অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, তবে এখনো নির্ধারিত হয়নি কোনো সময়সূচি। বিবিসি-এর বরাতে জানা গেছে, উভয় পক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখলেও রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি এবং কৌশলগত দ্বিধা আলোচনার গতি মন্থর করে রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সংলাপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর উভয় দেশই আলোচনার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তব অগ্রগতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনা শুরু করতে উভয় পক্ষেরই কিছু শর্ত রয়েছে, যা পূরণ না হলে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারণ সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আস্থার সংকটই সবচেয়ে বড় বাধা। বিশেষ করে Donald Trump প্রশাসনের অবস্থান আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ইরান চুক্তি নিয়ে যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে তারা ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এই নৌ অবরোধ ইস্যু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আলোচনায় আনতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। অন্যদিকে ইরান এটিকে সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। ফলে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই উত্তেজনার মাত্রা কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে বোঝা যায়, আলোচনার অগ্রগতির ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে কূটনৈতিক মহল এখনো আশাবাদী যে, যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে। অতীতেও একাধিকবার উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা করেছে। এবারও সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও আস্থার সংকট ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব সমাধান না হলে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার