‘মিথ্যা বলতে আপনারা পিছু পা হন না’: জামায়াত আমিরকে রিজভী
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজপথের দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “কয়দিন পর হয়তো বলবেন গোলাম আযম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছু পা হন না।”
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন রাজনৈতিক দলগুলো শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই দুই দলের এই ‘বাকযুদ্ধ’ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
রিজভী তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামী ইতিহাস বিকৃতির পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, “যাঁরা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদেরকে মহানায়ক বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কেবল হাস্যকর নয়, বরং জাতির সাথে এক ধরনের প্রতারণা।”
কেন এই দূরত্ব?
দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে থাকলেও গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আদর্শিক ও কৌশলগত দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
-
নির্বাচনী লড়াই: এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী ও নওগাঁর মতো আসনগুলোতে দুই দলের মধ্যে ‘নেক-টু-নেক’ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
-
ইতিহাসের বিতর্ক: জামায়াত নেতারা সম্প্রতি বিভিন্ন বক্তব্যে নিজেদের অবদানের কথা নতুন করে প্রচার করছেন, যা বিএনপির ‘জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক’ এই অনড় অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-
জোটের ভাঙন: ২০ দলীয় জোটের সেই পুরনো বন্ধুত্ব এখন নির্বাচনী ময়দানে তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।
প্রধান অভিযোগসমূহ:
রিজভীর বক্তব্যে উঠে আসা প্রধান তিনটি দিক হলো:
-
ইতিহাস বিকৃতি: জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ইতিহাসকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।
-
মিথ্যাচার: রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা অসত্য তথ্য পরিবেশন করছে।
-
আস্থার সংকট: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতের বর্তমান অবস্থানকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের এই মুখোমুখি অবস্থান সরাসরি সুবিধা করে দিতে পারে অন্য ছোট দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন দলগুলোর উত্থান এই মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। রিজভীর এই কড়া মন্তব্য মূলত তৃণমূলের কর্মীদের এই বার্তা দেওয়া যে, ভোটের মাঠে জামায়াতকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।





