মানবিকতার সংকট কাটাতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
শুধু রাজনৈতিক খবর আর ক্ষমতার হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ ছড়িয়ে দিতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, একটি সুস্থ রাষ্ট্র গঠনের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন মানুষের ভেতরের মানবিক গুণাবলির বিকাশ।
সোমবার সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামাজিক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, মানুষের চিন্তা ও আচরণ গঠনে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সমাজে ধীরে ধীরে এক ধরনের সংবেদনশীলতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। দুর্ঘটনা, নির্যাতন কিংবা অসহায় মানুষের বিপদের মুহূর্তে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বদলে অনেকেই ঘটনার দর্শক হয়ে থাকেন। কেউ কেউ আবার সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেই বেশি আগ্রহী হন। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা জাগিয়ে তুলতে সংবাদমাধ্যমকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনের জনজীবনের প্রতিটি আলোচনাই রাজনৈতিক বিরোধ আর দলীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়া উচিত নয়। সমাজে শিক্ষা, নৈতিকতা, পারিবারিক বন্ধন, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক চর্চার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনা প্রয়োজন।
বৈঠকে উপস্থিত টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর নির্বাহী ও বার্তা প্রধানরা সম্প্রচার খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নানা দিক নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার আশ্বাস দেন।
আলোচনায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও মাহদী আমিন, স্পিচ রাইটার এস. এ. এম. মাহফুজুর রহমান, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর অতিথিদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও অংশীদারত্বমূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই মতবিনিময় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।





