ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন, স্বস্তি ফিরছে বিশ্ববাজারে
দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার অবসানে নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই অগ্রগতিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন সমঝোতার খবর প্রকাশের পরপরই বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও তেলবাহী জাহাজের চলাচল শুরু হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সচল হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানিয়েছে বাহরাইন। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে।
পরিস্থিতির উন্নতির প্রেক্ষাপটে কুয়েত সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪ থেকে উপসাগরীয়, আরব ও বিদেশি বিভিন্ন বিমান সংস্থার কার্যক্রম ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ফ্লাইট সূচি নির্ধারণ করা হবে।
সমঝোতার ইতিবাচক প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে। প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন করেছে। একই চিত্র দেখা গেছে কানাডার শেয়ারবাজারেও। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় টরন্টো স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৭৫ দশমিক ১১ পয়েন্টে।
অন্যদিকে, চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে “বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত” বলে অভিহিত করেছেন। আর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস বলেছেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বেশ কয়েকটি জটিল ইস্যু এখনো আলোচনার টেবিলে রয়ে গেছে। ফলে এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





