ভোটের আগে–পরে ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল বন্ধ, ২৪ ঘণ্টা অন্যান্য যন্ত্রচালিত যান নিষিদ্ধ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ভোটের আগে–পরে টানা তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে; পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকবে অন্যান্য যন্ত্রচালিত যান চলাচলে।
ইসি সূত্র জানায়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার, সহিংসতা ও অনিয়মের ঝুঁকি কমানো এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। নির্বাচনী এলাকায় দ্রুত চলাচলকারী যান ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা অতীতে দেখা গেছে—সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আগেভাগেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোটগ্রহণের দিনসহ তার আগের ও পরের মিলিয়ে মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সময়ে, ভোটগ্রহণের দিন ২৪ ঘণ্টার জন্য বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যন্ত্রচালিত যান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে জরুরি সেবা—যেমন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যান—এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই বা ভোটার ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা সহায়ক হবে। তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও পণ্য পরিবহনে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হতে পারে—এ কথাও স্বীকার করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, আগাম ঘোষণা দেওয়ায় বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রী গণপরিবহনের পরিবর্তে হেঁটে বা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারবেন। আবার ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনের সময়সূচি সামঞ্জস্য করার কথা ভাবছেন। তবু গ্রামীণ এলাকায় বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় সেখানে সমস্যা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে। কোথাও বিধি লঙ্ঘনের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নিজ নিজ কর্মী–সমর্থকদের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।





